চিরদিনের জন্য (চতুর্থ পর্ব)
🎙️ :
দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় যেমন কোলাহল থামে না, তেমনই রাহুলের ছুটোছুটি থামছিল না। সকালবেলা অফিস, দুপুরে ডাক্তার, রাতে ওষুধ কিনতে দৌড়—সবই সান্যার জন্য।
👦 রাহুল (মনে মনে):
“আমার জীবন যদি তার জন্য ক্লান্তও হয়, তবু আমি লড়ব। আমি সান্যাকে ছাড়ব না।”
🎙️ :
সান্যা কিন্তু আলাদা। সে কখনোই রাহুলের কষ্ট সহ্য করতে পারত না। যখনই রাহুল গভীর রাত পর্যন্ত জেগে তার মাথায় হাত বোলাত, সান্যা হেসে উঠত।
👧 সান্যা (আস্তে):
“তুমি এত কষ্ট করছো কেন, রাহুল? আমি তো একদিন…”
👦 রাহুল (থামিয়ে দিয়ে, চোখ ভিজে):
“থামো! আমি তোমার থেকে এরকম কথা শুনতে চাই না। আমি চাই তুমি বাঁচো।”
🎙️ :
সান্যা তার দিকে তাকিয়ে চুপ করে যেত। রাহুলের চোখে যে ভালোবাসা দেখত, সেটা তাকে একই সাথে সুখী আর কষ্টী করত।
🎙️ :
একদিন সন্ধ্যায় তারা দুজনে ইন্ডিয়া গেটের ধারে বসেছিল। ভিড়ের মধ্যে থেকেও যেন একা ছিল তারা।
👧 সান্যা (হালকা কণ্ঠে):
“রাহুল, যদি একদিন আমি চলে যাই… তুমি কী করবে?”
👦 রাহুল (চোখে দৃঢ়তা):
“আমি তোমাকে যেতে দেব না। আর যদি ভগবান নিয়ে যায়… আমি তোমার স্মৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকব।”
👧 সান্যা (চোখ ভিজে):
“তুমি কেন এমন? কেন আমার জন্য এত কিছু করবে?”
👦 রাহুল (তার হাত চেপে ধরে):
“কারণ তোমার জন্যই আমি বেঁচে আছি।”
🎙️ :
দিনগুলো যত গড়াতে লাগল, সান্যার শরীর তত ভেঙে পড়তে লাগল। তার হাসি আগের মতো উজ্জ্বল থাকলেও, শরীর তাকে সঙ্গ দিচ্ছিল না।
রাহুল তার জন্য নতুন নতুন ডাক্তার খুঁজছিল। ঋণ নিচ্ছিল, নিজের স্বপ্নগুলো ছেড়ে দিচ্ছিল—কিন্তু তবুও আশা হারাচ্ছিল না।
👦 রাহুল (এক রাতে, সান্যার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে):
“যদি প্রয়োজন হয় আমি আমার সব স্বপ্ন বিক্রি করব, চাকরি ছাড়ব, জীবন উজাড় করে দেব। শুধু তুমি থেকো।”
🎙️ :
কিন্তু সান্যা বুঝতে পারছিল, রাহুল যতই লড়ুক, তার শরীর ভেতর থেকে ভেঙে যাচ্ছে।
🎙️ :
এক রাতে হাসপাতালের বারান্দায় সান্যা হঠাৎ রাহুলকে বলল—
👧 সান্যা:
“রাহুল, তুমি কি জানো আমি সবচেয়ে বড় কী ভয় পাই?”
👦 রাহুল (চিন্তিত):
“কী?”
👧 সান্যা (চোখ নামিয়ে):
“তুমি যখন থাকবে না… তখন কীভাবে বাঁচব।”
👦 রাহুল (তার হাত শক্ত করে ধরে):
“আমি আছি, আমি আছি, সবসময় আছি।”
🎙️ :
রাহুলের সেই কণ্ঠ যেন এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিল। সান্যা চোখ বন্ধ করল, আর প্রথমবার মনে হলো হয়তো মৃত্যুর ভয়কেও হারানো যায়, যদি পাশে রাহুল থাকে।
🎙️ :
পরের দিন ডাক্তার জানালেন—অবস্থা গুরুতর। হয়তো খুব অল্প সময় আছে।
👦 রাহুল (দাঁতে দাঁত চেপে, ডাক্তারকে):
“যা যা করার আছে, আমি করব। যত খরচই হোক।”
👨⚕️ ডাক্তার (দীর্ঘশ্বাস ফেলে):
“আমরা চেষ্টা করব, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রার্থনার উপর।”
🎙️ :
রাহুলের পৃথিবী যেন ভেঙে পড়ল। তবু সান্যার সামনে সে হাসিমুখেই থাকল। যেন তাকে বোঝাতে চাইছিল—“সব ঠিক হয়ে যাবে।”
👧 সান্যা (দুর্বল গলায়, বিছানায় শুয়ে):
“রাহুল, আমি জানি তুমি আমার জন্য সবকিছু করছো। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো—যদি আমি না থাকি, তবুও তুমি বেঁচে থেকো। নিজের জন্য।”
👦 রাহুল (চোখে জল, ফিসফিস করে):
“আমার জীবন তো তুমি, সান্যা। তুমি না থাকলে আমি কিসের জন্য বাঁচব?”
🎙️ :
কোনো উত্তর ছিল না। শুধু হাসপাতালের মেশিনের টিকটিক শব্দ ভেসে আসছিল।
🎙️ (শেষ দৃশ্য – Part 4):
রাহুল সেই রাতে হাসপাতালের বারান্দায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আবার প্রার্থনা করল—
👦 রাহুল:
“ভগবান, যদি আমার সুখ কেড়ে নিয়ে সান্যাকে বাঁচানো যায়, সবকিছু নিয়ে নাও। শুধু ওকে রেখো।”
🎙️ :
কিন্তু ভাগ্যের খাতা যেন ধীরে ধীরে বন্ধ হতে শুরু করেছে।
পরের পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে
তৃতীয় পর্ব __ https://firsekahanisuno.blogspot.com/2025/09/blog-post_73.html
