চিরদিনের জন্য (তৃতীয় পর্ব)

🎙️ : দিল্লির দিনগুলো যেন হঠাৎ করে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। রাহুল আর সান্যা একসাথে থাকলে শহরের ভিড়ও যেন শান্ত মনে হতো।

তারা একসাথে ঘুরে বেড়াত জাহানপানাহ পার্ক, হুমায়ুনের সমাধি, ইন্ডিয়া গেটের লনে বসে লম্বা লম্বা গল্প হতো।





👧 সান্যা (হেসে, রাহুলের দিকে তাকিয়ে):
“তুমি জানো, আমি তোমার সাথে থাকলে মনে হয় পৃথিবীটা খুব ছোট, শুধু তুমি আর আমি আছি।”

👦 রাহুল (চোখে মায়া):
“আর আমি মনে করি, তোমার সাথে থাকলে আমি কিছুতেই হেরে যেতে পারব না।”

🎙️ :
তাদের হাসি, তাদের নীরবতা—সবকিছুতেই জন্ম নিতো এক গভীর প্রেম।


🎙️ :
একদিন রাতে, কনট প্লেসের এক ক্যাফেতে বসেছিল তারা। বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল টুপটাপ।

👧 সান্যা (চোখ জানালার বাইরে):
“বৃষ্টি সবসময় আমায় ভয় দেখায়, জানো? মনে হয়, কিছু একটা হারিয়ে যাবে।”

👦 রাহুল (হাসতে হাসতে তার হাত ধরে):
“আমি থাকব, কিছুই হারাবে না।”

🎙️ :
সান্যা চুপচাপ রাহুলের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা আর এক অদ্ভুত বেদনা মিশে ছিল।


🎙️ :
কিন্তু ধীরে ধীরে সান্যার ভেতরের ঝড় প্রকাশ পেতে লাগল।

কখনো মাঝরাতে ফোন কেটে দিত, আবার হঠাৎ করে কেঁদে ফেলত।

👦 রাহুল (এক রাতে, চিন্তিত গলায়):
“সান্যা, কী হয়েছে বলো তো? তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।”

👧 সান্যা (চোখ নামিয়ে, ফিসফিস করে):
“আমি কাউকে বোঝাতে পারব না, রাহুল। শুধু চাই তুমি সবসময় থাকো।”

👦 রাহুল (তার মুখ ছুঁয়ে):
“আমি প্রতিজ্ঞা করছি, যাই হোক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।”

🎙️ :
সেই রাতের প্রতিজ্ঞা যেন তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করে দিল। কিন্তু রাহুল বুঝতেই পারল না, সান্যা হয়তো ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত লড়াইয়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে।


🎙️ :
একদিন, তারা লোধি গার্ডেনে বেড়াতে গেল। রাহুল খেয়াল করল সান্যা বারবার ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।

👦 রাহুল (উদ্বিগ্ন স্বরে):
“তুমি ঠিক আছো তো? এত হাঁপাচ্ছ কেন?”

👧 সান্যা (মুখে জোর করে হাসি):
“কিছু না… হয়তো একটু দুর্বল লাগছে।”

🎙️ :
রাহুল জোর করেই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলল—সান্যার শরীরে কিছু সমস্যা আছে, যা সময়ের সাথে খারাপ হচ্ছে।

👦 রাহুল (আতঙ্কিত):
“কিন্তু চিকিৎসা? কোনো উপায় আছে তো?”

👨‍⚕️ ডাক্তার (গম্ভীর স্বরে):
“চেষ্টা চলবে, তবে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

🎙️ :
সেই মুহূর্তে রাহুলের দুনিয়া যেন থেমে গেল। সান্যা একদিকে চুপচাপ বসেছিল, আর রাহুলের চোখে জল জমে উঠেছিল।


👧 সান্যা (হাসি মাখা, রাহুলের চোখ মুছে দিয়ে):
“এত ভয় পেয়ো না, রাহুল। আমি এখনো আছি।”

👦 রাহুল (আঁকড়ে ধরে):
“আমি সবকিছু করব, সান্যা। তোমার জন্য ডাক্তার, হাসপাতাল, ওষুধ—সব ব্যবস্থা করব। আমি তোমাকে হারাতে পারব না।”

🎙️ :
রাহুল সত্যিই সবকিছু করতে শুরু করল। চাকরির পরে সময় কাটাত শুধু সান্যার চিকিৎসা আর যত্নে। ওষুধ কিনত, ডাক্তার দেখাত, তার পাশে থাকত প্রতিটি মুহূর্তে।

সে যেন নিজের জীবনটাকেই উৎসর্গ করে দিল সান্যার জন্য।


🎙️  (শেষ দৃশ্য – Part 3):
এক রাতে, হাসপাতালের বারান্দায় বসে রাহুল আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল—

👦 রাহুল (ফিসফিস করে):
“ভগবান, যদি আমার জীবন দিয়ে সান্যাকে বাঁচানো যায়, আমি আজই আমার সবকিছু দিয়ে দেব।”

🎙️ :
সেই প্রার্থনা যেন বাতাসে ভেসে গেল, কিন্তু উত্তর তখনো আসেনি। আর রাহুল জানত না, তার ভালোবাসা পরীক্ষা নেওয়ার দিন খুব কাছাকাছি


চতুর্থ পর্ব __ https://firsekahanisuno.blogspot.com/2025/09/blog-post_11.html


দ্বিতীয় পর্ব __ https://firsekahanisuno.blogspot.com/2025/09/blog-post_10.html

Popular posts from this blog

तुम, मैं और मुंबई (part_1)

अरिंदम और मिताली की कहानी (incomplete love)

Falling in love (part-3)